মাকামে ইব্রাহীম
মাকাম শব্দের অর্থ দাড়ানোর জায়গা। আর মাকামে ইব্রাহীম অর্থ ইব্রাহীম (আ:)এর দাড়ানোর জায়গা। এটি একটি বেহেস্তি পাথর, যার ওপর দাঁড়িয়ে ইব্রাহীম (আ:) কা’বাঘর নির্মাণ করেছিলেন। ইসমাইল (আ:) কাবাঘর নির্মান করার পাথর এনে দিতেন আর ইব্রাহীম (আ:) এই পাথরের উপর দাঁড়িয়ে সেগুলি লাগাতেন। পাথরটি প্রয়োজন সাপেক্ষে ইব্রাহিম (আ.) কে উপরে-নীচে ও ডানে-বায়ে তুলে ধরত, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। কারণ, পাথরটি জান্নাত থেকে আগত ইয়াকুত পাথর। হাদীসে এসেছে, ‘হাজরে আসওয়াদ’ ও ‘মাকামে ইব্রাহীম’ পাথর দু’খানি জান্নাতের ইয়াকুত পাথরগুলোর মধ্য থেকে দু’টি পাথর, আল্লাহ যেগুলোকে আলোহীন করে দিয়েছেন। যদি তিনি এগুলি আলোহীন না করে দিতেন, তবে তা পূর্ব-পশ্চিমকে আলোকিত করে দিত।
কুর’আনুল কারীমে মাকামে ইব্রাহীমকে হারাম শরীফের স্পষ্ট নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হল ঐ পাথরে হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর পদচিহ্ন, যার ওপর তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। আর একটি হলো কেয়ামত পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফকারী মুসলমানদের জন্য মাকামে ইব্রাহীম এর পিছনে দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব করে দিয়েছেন।নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত তাওয়াফ পূর্ণ হবে না। যদি মাকামে ইব্রাহীমের পাশে জায়গা না পাওয়া যায়, তাহলে হেরেমের অন্য স্থানেও নামাজ আদায় করা যায়। কিন্তু এখানে নামাজ আদায় করাই শ্রেয়। এবং এটি একটি দোয়া কবুলের স্থান।
ইব্রাহীম (আ:) বাইতুল্লাহ্র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পর মাকামে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ঘোষনা দিলেন – ‘হে মানুষ, তোমাদের ওপর হজ ফরয করা হয়েছে। ঘোষণাটি তিনি সে অনাগত প্রজন্মকেও শুনিয়ে দিলেন, যারা ছিল তখনও পুরুষের মেরুদন্ডে এবং নারীদের গর্ভে। যারা ঈমান এনেছিলেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা হজ করবেন বলে আল্লাহ জানতেন তারা এ ঘোষণায় সাড়া দিয়ে বললেন, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।’
মাকামে ইবরাহীমে ইব্রাহীম (আ:) এর পদচিহ্নের একটি ১০ সেন্টিমিটার গভীর ও অন্যটি ৯ সেন্টিমিটার। লম্বায় প্রতিটি পা ২২ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ১১ সেন্টিমিটার। মাকামে ইব্রাহিম কাবাঘরের কাছেই, মসজিদুল হারামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, যা হাজরে আসওয়াদ থেকে প্রায় ১৪ মিটার দূরে এবং জমজম কূপের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও পবিত্র স্থান; বর্তমানে এটি একটি কাঁচ ও সোনার বেষ্টনীর মধ্যে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
You must be logged in to post a comment.