দুই দরজার সরাইখানা: নূহ (আঃ)-এর হাজার বছরের উপলব্ধি
আল্লাহর নবী হযরত নূহ (আঃ)-এর হায়াত ছিল প্রায় এক হাজার বছর। এই দীর্ঘ সময়, বিশেষ করে ৯৫০ বছর, তিনি মানুষকে একনিষ্ঠভাবে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার কাজে ব্যয় করেছেন।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একদিন তিনি আক্ষেপ করে বললেন:
“হায়! আমার এই এক হাজার বছর সময় মনে হচ্ছে যেন মাত্র দশটি দিনের মতো কেটে গেল! কত দ্রুতই না চলে গেল এই দীর্ঘ সময়!”
জিবরাঈল (আঃ)-এর প্রশ্ন
তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে হযরত জিবরাঈল (আঃ) তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন:
“নবীদের মধ্যে আপনি সবচেয়ে বেশি হায়াত পেয়েছেন। বলুন তো, আপনার কাছে এই দুনিয়াকে কেমন মনে হলো? আপনি জীবনকে কীভাবে দেখলেন এবং এখন কেমন অনুভূতি নিয়ে চলে যাচ্ছেন?”
হযরত নূহ (আঃ) তখন এক গভীর ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর দিলেন:
“আমি এই দুনিয়াকে একটি দুই দরজাওয়ালা সরাইখানার মতো দেখেছি। মনে হলো, আমি এক দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকলাম, আর কিছু না করতেই অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। সফরের ক্লান্তি দূর করার আগেই প্রস্থানের ডাক (মৃত্যু) এসে গেল। আমার মনে হচ্ছে আমি অতৃপ্তি ও আক্ষেপ নিয়েই চলে যাচ্ছি।”
ক্ষণস্থায়ী জীবনের শিক্ষা
হাকিম সানাঈ (রহঃ) এই ঘটনা উল্লেখ করে বলেন—হায়াত লম্বা হোক বা ছোট, শেষ পর্যন্ত সবাইকে এখান থেকে বিদায় নিতেই হয়। হযরত নূহ (আঃ) হাজার বছর বেঁচেও মনে করলেন সময় খুব কম ছিল। তাহলে আমাদের এই অল্প হায়াতের মূল্য কতটুকু?
মৃত্যুর হুকুম সবার জন্যই সমান। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। যত দীর্ঘই হোক না কেন, মৃত্যুর সময় মনে হবে জীবনটা ছিল চোখের পলকের মতো।
শিক্ষা:
হযরত নূহ (আঃ)-এর এই উপলব্ধি আমাদের শেখায় যে, আমাদের এই অল্প সময়কে আল্লাহর কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ দুনিয়ার দীর্ঘতম জীবনও মৃত্যুর মুহূর্তে এক মুহূর্তের মতো মনে হয়।
You must be logged in to post a comment.