জর্জ স্টিনি জুনিয়র–এর গল্প
মৃত্যুর চেয়ারে বসানো হয়েছিল মাত্র ১৪ বছরের এক শিশু—যে জানতই না ‘মৃত্যুদণ্ড’ মানে কী…
ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অন্যায়গুলোর একটি—জর্জ স্টিনি জুনিয়র–এর গল্প।
১৯৪৪ সালের সাউথ ক্যারোলাইনা। জাতিগত বৈষম্য, ভয় আর রাগে বিভক্ত এক সমাজ। সেই সমাজের হাতে মাত্র ১৪ বছরের এক কৃষ্ণাঙ্গ শিশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এমন এক অপরাধে, যার সঙ্গে তার কোনো প্রমাণিত যোগসূত্রই ছিল না। জর্জ একদিন খেলতে খেলতে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয়। না ছিল কোনও অভিভাবক, না আইনজীবী, না সাক্ষী। ঘন্টার পর ঘন্টা একা বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। বলা হয় সে নাকি দুইটি শ্বেতাঙ্গ মেয়েকে হত্যা করেছে।
প্রমাণ? শূন্য।
তবু মাত্র ১০ মিনিটের বিচার, এবং ২ ঘণ্টার জুরি আলোচনা—এর মধ্যেই এক শিশুকে “দোষী” ঘোষণা করে দেওয়া হয়। আদালতে সে বসেছিল একা, যেখানে বড়দের ভয়াল চোখের ভাষা তার কাছে ছিল অচেনা। ফয়সালা শুনে সে এক সরল প্রশ্ন করেছিল— “সেন্টেন্সড টু ডেথ মানে কী?” এই প্রশ্নটিই প্রমাণ করে দেয়—সে ছিল শিশুই। বোঝার বয়সই হয়নি জীবনের শেষ মুহূর্ত কীভাবে লেখা হচ্ছে। এরপর যা হলো তা মানবতার সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়। মাত্র ৯০ পাউন্ড ওজনের শিশুকে বসানো হলো ইলেকট্রিক চেয়ারে। হেলমেট তার মাথায় ঠিকমতো ফিটই হচ্ছিল না—
সেই দৃশ্য আজও চোখে জল আনে।
সংবাদপত্রের রিপোর্ট বলে—
একটি শিশু, যে এখনও খেলনা নিয়ে খেলত, তাকে পূর্ণবয়স্ক অপরাধীর মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। কারণ সে ছিল কৃষ্ণাঙ্গ। কারণ সত্যের চেয়ে বেশি মূল্য পেয়েছিল তৎকালীন সমাজের পক্ষপাত। কিন্তু ইতিহাস সবসময় এমন অন্যায় চুপচাপ মেনে নেয় না। ৭০ বছর পরে, ২০১৪ সালে, জর্জ স্টিনির মামলা পুনঃবিবেচিত হয়। একজন বিচারক রায় ঘোষণা করেন—
“জর্জ স্টিনি একটি ন্যায্য বিচারও পায়নি। তার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।” শিশুর মৃত্যু ফিরিয়ে আনা যায় না। কিন্তু দেরিতে হলেও তার নাম থেকে মুছে গেল অন্যায়ের কালিমা। আজ এই গল্প শুধু একটি বিচারবিভ্রাটের স্মৃতি নয়—এটি প্রশ্ন তোলে—
জর্জ স্টিনি জুনিয়র আজ ন্যায়বিচারের একটি প্রতীক— একটি কণ্ঠ যা আমাদের শেখায়— শিশুর চোখে ভয়ের জল কখনোই বিচার হতে পারে না।
কমেন্টে লিখুন।
লেখা: সম্রাট রায় চৌধুরী।
ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক পেজ #শেষরাত
You must be logged in to post a comment.