একটি মাছ ভাগ্য বদলে দিলো।

একটি মাছ ভাগ্য বদলে দিলো।

একটি মাছ ভাগ্য বদলে দিলো।

আরবের এক ব্যক্তির দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আগুনের লেলিহান শিখা নেভার পর দেখা গেল, শুধু দেয়ালগুলোই অবশিষ্ট আছে। লোকজন তাকে সান্ত্বনা দিতে জড়ো হলো। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখল, লোকটি কাঁদছে না; বরং তার মুখে হাসি! যেন তার কিছুই হয়নি।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, “ওহে আবু আব্দুল্লাহ! তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তোমার এত বড় ক্ষতি হলো, আর তুমি হাসছ?”
তিনি উত্তর দিলেন, “আমি কেন দুঃখ করব? আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমি যদি আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকি, তবে আল্লাহ আমাকে এর চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন। আমি আমার সব বিষয় আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি এবং সর্বাবস্থায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি।”
মাত্র দুই সপ্তাহ পর, লোকেরা অবাক হয়ে দেখল সেই জায়গায় একটি বিশাল নতুন দোকান দাঁড়িয়ে আছে, যা হরেক রকমের মালামালে পরিপূর্ণ। কৌতূহলী হয়ে তারা ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখল, আবু আব্দুল্লাহ দোকানের ভেতরে নামাজ পড়ছেন।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, “এটা কীভাবে সম্ভব? মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আপনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। এত টাকা আপনি কোথায় পেলেন?”
আবু আব্দুল্লাহ মুচকি হেসে বললেন, “আমি কি তোমাদের বলিনি যে আমার বিশ্বাস ছিল আল্লাহ আমাকে দান করবেন? আল্লাহর কসম! তিনি তাঁর দানে আমাকে অবাক করে দিয়েছেন।”
আবু আব্দুল্লাহ বলতে শুরু করলেন:
“দোকান পোড়ার পর এক শুক্রবার সকালে আমার কাছে বাচ্চাদের খাবারের টাকাও ছিল না। আমার স্ত্রী তার বোনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করে আনল। আমি সেই টাকা নিয়ে বাজারে মাছ কিনতে গেলাম।
বাজারে দেখলাম, এক জেলে একটি ছোট মাছ হাতে নিয়ে কাকুতি-মিনতি করছে। সে মাছটি ২০০ দিনারে বিক্রি করতে চাইছিল। কিন্তু মাছটির যা আকার, তাতে কেউ ৫০ দিনারও দিতে চাইছিল না। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই, তুমি এত বেশি দাম চাইছ কেন?’
জেলে বলল, ‘আমার মেয়ে খুব অসুস্থ। সারাদিন চেষ্টা করে আমি শুধু এই একটি মাছই পেয়েছি। আমার ২০০ দিনার খুব দরকার, যাতে আমি মেয়ের চিকিৎসার পুরো ওষুধ কিনতে পারি।’
তার অবস্থা দেখে আমার খুব মায়া হলো। আমি ভাবলাম, আল্লাহর রাস্তায় এটি সদকা করে দিই। আমি তাকে ২০০ দিনার দিয়ে মাছটি কিনে নিলাম এবং বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে রান্না করতে বললাম। এরপর আমি জুমার নামাজ পড়তে চলে গেলাম।”
“নামাজ থেকে ফিরে দেখি আমার স্ত্রী অবাক হয়ে বলছে, ‘দেখো তো, মাছের পেটে এগুলো কী পাওয়া গেছে?’আমি দেখলাম, নয়টি সুন্দর চকচকে পাথর। আমি বললাম, ‘বাহ! পাথরগুলো খুব সুন্দর, আমরা এগুলো যত্ন করে রেখে দেব।’
দুদিন পর আমার মেয়ে ও জামাই বেড়াতে এল। আমি জামাইকে পাথরগুলো দেখালাম। সে পাথরগুলো দেখেই চমকে উঠল! সে বলল, ‘আব্বা! এগুলো সাধারণ পাথর নয়, এগুলো অত্যন্ত দামী মুক্তা! এগুলোর অনেক দাম, আপনি তো ধনী হয়ে যাবেন!’
“আমার জামাই তখন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করল। তারা এই মুক্তাগুলো কেনার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু করল। আমি মাত্র তিনটি মুক্তা বিক্রি করলাম, আর বাকি ছয়টি রেখে দিলাম। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করলেন এবং আমি যা হারিয়েছিলাম, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ফিরিয়ে দিলেন।”
পরদিন আমি সেই জেলেকে খুঁজতে বাজারে গেলাম, যাতে আল্লাহর এই নিয়ামত থেকে তাকেও কিছু দিতে পারি। কিন্তু তাকে আর খুঁজে পেলাম না। অন্য জেলেদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, ‘এখানে এমন কোনো ব্যক্তিকে আমরা চিনি না।’
তখন আমি বুঝতে পারলাম, সে আসলে কোনো সাধারণ জেলে ছিল না। হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো পরীক্ষা বা সাহায্য ছিল, যা মানুষরুপে এসেছিল।” (আরবী হেকায়াত)
যখন আল্লাহর ওপর আপনার সুধারণা খাঁটি হয়, তখন তিনি আপনাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক ও খুশি দান করেন, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।
© Salman Farsi

You must be logged in to post a comment.