মিরান্ডা, ইউরেনাসের উপগ্রহ।

মিরান্ডা, ইউরেনাসের উপগ্রহ।

এই গোলাকার পাথরটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৯ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ভয়েজার-১ (Voyager 1) মহাকাশযান একসময় এই বস্তুটির খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছিল।
প্রথমে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো কোনো মহাকাশের ভাসমান পাথর।
কিন্তু পরে জানা গেল—এটি পাথর নয়, বরং এটি হলো ইউরেনাস (Uranus) গ্রহের উপগ্রহ মিরানডা (Miranda)।
হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন —
মিরানডা হলো আমাদের সৌরজগতের সপ্তম বৃহত্তম চাঁদ।
নাসা-র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মিরানডার ব্যাস প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার।
মজার ব্যাপার হলো, লাহোর শহরের ব্যাস এর চেয়েও বড়!
এর মানে, মিরানডার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অত্যন্ত কম।
অর্থাৎ, যদি আপনি মিরানডার কোনো উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ থেকে নিচে লাফ দেন, তবে নিচে পৌঁছাতে ১০–১২ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগবে —
কারণ আপনি ওই সময়ে ইউরেনাসের চাঁদ মিরানডার মহাশূন্যে ভেসে থাকবেন।
আরও অবাক করা বিষয় হলো — সেখানে আপনি ১,০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের বস্তু সহজেই তুলতে পারবেন!
আপনার মনে হতে পারে,
“যেহেতু পৃথিবীর চাঁদ উজ্জ্বল, তাহলে ইউরেনাসের এই চাঁদ এত অন্ধকার কেন?”
এর উত্তর হলো —
মিরানডা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করতে খুবই অক্ষম।
এটি সূর্যালোকের মাত্র এক-তৃতীয়াংশেরও কম প্রতিফলিত করে।
এ থেকেই বোঝা যায়, মিরানডার পৃষ্ঠে কার্বনসমৃদ্ধ (carbonaceous) পদার্থের স্তর জমে আছে,
যা এর রংকে কালচে ও নিস্তেজ করে তুলেছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, ইউরেনাসের সব বড় চাঁদ—মিরানডাসহ—মূলত বরফ ও সিলিকেট শিলা (silicate rocks) দ্বারা গঠিত।
মিরানডা সবসময় গতি বা কম্পনের মধ্যে থাকে।
এটির তাপমাত্রা হলো -৩৩৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট,
যেখানে অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা -৭১ ডিগ্রি ফারেনহাইট!
ভাবুন তো, ইউরেনাসের এই চাঁদ কতটা শীতল ও প্রাণহীন হতে পারে!
ইউরেনাস গ্রহ নিজেই পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে,
আর তার উপগ্রহ মিরানডা আমাদের থেকে প্রায় ২.৯ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে।
মিরানডা ছাড়াও ইউরেনাসের আরও ২৬টি চাঁদ আছে,
যারা বিলিয়ন বছর ধরে তার চারপাশে ঘুরছে।
নাসা এখনো পর্যন্ত এর জন্য কোনো নতুন মিশন পাঠায়নি,
কারণ সেখানে জীবন শুধু কঠিন নয় — একেবারে অসম্ভব।
চারদিকে প্রবল শীত,
যেখানে মানুষ তো দূরের কথা — ব্যাকটেরিয়াও টিকে থাকতে পারে না।
জানিনা এতে আল্লাহ কি হিকমত রেখেছেন।
হয়তো এটা আল্লাহ্‌র এক রহস্যময় নিদর্শন —
যা আমাদের দেখিয়ে দেয়,
“আমি যা চাই, তা সৃষ্টি করতে সক্ষম।”
তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। 🌌

You must be logged in to post a comment.