ভয়েজার ১ কি কখনও কোনো ভিনগ্রহী সভ্যতার হাতে পৌঁছাবে?

ভয়েজার ১ কি কখনও কোনো ভিনগ্রহী সভ্যতার হাতে পৌঁছাবে?

ভয়েজার ১ কি কখনও কোনো ভিনগ্রহী সভ্যতার হাতে পৌঁছাবে?

১৯৭৭ সালে নাসার উৎক্ষেপিত ভয়েজার ১ এখন পর্যন্ত তৈরি করা মানবজাতির সবচেয়ে দূরবর্তী রোবটিক দূত। এটি প্রায় ৪৭ বছর ধরে আমাদের সৌরজগত থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে এবং বর্তমানে এক আলোকদিবসেরও বেশি দূরে অবস্থান করছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই যন্ত্রটি কি কখনও কোনো *ভিনগ্রহী সভ্যতা*র হাতে পৌঁছাবে?

ভয়েজার ১-এ রয়েছে একটি বিশেষ গোল্ডেন রেকর্ড, যাতে পৃথিবীর ভাষা, সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ডিস্কের উদ্দেশ্য হলো—যদি কোনো উন্নত extraterrestrial civilization একে খুঁজে পায়, তাহলে তারা যেন বুঝতে পারে যে এটি একটি বুদ্ধিমান প্রজাতির বার্তা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মহাবিশ্ব এতটাই বিশাল যে ভয়েজার ১-এর ভবিষ্যৎ কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

বর্তমানে ভয়েজার ১ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৭ কিমি গতিতে ছুটে চলেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এটি পরবর্তী নিকটতম তারা প্রথার কাছাকাছি যেতে সময় লাগবে প্রায় ৪০,০০০ বছর! আর সেই তারকায় বুদ্ধিমান প্রাণ আছে কি না, তা এখনও অজানা।

একটি সম্ভাব্য থিওরি হচ্ছে—যদি কোনো মহাজাগতিক সভ্যতা তাদের নিজস্ব অঞ্চলের বাইরে প্রযুক্তির চিহ্ন খুঁজে পেতে চায়, তবে তারা হয়তো এই ধরনের সিগন্যাল ধরতে পারে। তবে ভয়েজার ১-এর ট্রান্সমিশন ক্ষমতা এখনো সীমিত এবং সময়ের সাথে সাথে সেটি হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে যদি কোনো উন্নত সভ্যতা ভয়েজার ১ খুঁজে পায়, সেটা হবে এক অনন্য ঘটনা। এটি প্রমাণ করবে, আমরা মহাবিশ্বে একা নই, আর আমাদের ক্ষুদ্র বার্তা কোনো একদিন বৃহৎ মহাবিশ্বে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

You must be logged in to post a comment.