ফুটবলের যাদুকর সৈয়দ আবদুস সামাদ (জন্ম- ৬ ডিসেম্বর ১৮৯৫, পূর্ণিয়া, পশ্চিমবঙ্গ- মৃত্যু- ২ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৪, পার্বতীপুর, বর্তমানে বাংলাদেশ) এর জীবনের কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা-
১) সর্ব ভারতীয় ফুটবল দল গিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাভায়। খেলা চলাকালে ইন্দোনেশিয়ার বেশ ক’জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে তীব্র শট করলেন সামাদ। বল গোলপোস্টের ওপরের ক্রসবারে লেগে ফিরে এলো মাঠে। বিস্মিত হলেন তিনি। গোল হলো না কেন? কিছুক্ষণ পর আবারও একই ঘটনা। এবার সামাদ রেফারিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন, “গোলপোস্টের উচ্চতা কম আছে। তা না হলে, আমার দুটি শটেই গোল হতো।” ফিতে দিয়ে মেপে দেখা গেল সত্যিই গোলপোস্টের উচ্চতা স্ট্যান্ডার্ড মাপের চেয়ে চার ইঞ্চি কম রয়েছে! ফলে সেই শটগুলো গোল হিসেবে ধরা হয়।

ফুটবলের যাদুকর সৈয়দ আবদুস সামাদ
২) ফুটবল নিয়ে সেই কিশোর বয়স থেকে অনুশীলন করতে করতে সামাদ পরিণত হয়েছিলেন ফুটবলের এক মহান শিল্পীতে। একবার খেলার আগ মুহূর্তে মাঠের চারদিকে পায়চারী করে এসে সামাদ ক্রীড়া কমিটির কাছে অভিযোগ করলেন এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাপ হিসেবে ছোট বিধায় এ মাঠে আমাদের টিম খেলতে পারে না। পরে মাঠ মাপার পর তার অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়।
৩) সর্বভারতীয় ফুটবল দল লন্ডনে গেছে গ্রেট ব্রিটেন ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ফুটবল খেলার জন্য। সর্বভারতীয় ফুটবল দলে রয়েছেন সামাদ নামে একজন বাঙ্গালী ফুটবলার। গ্রেট ব্রিটেন ফুটবল দল প্রথমে সর্ব ভারতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে খেলতেই চায় নি- নাক সিঁটকিয়েছে। সে সময় সামাদ চ্যালেঞ্জ করে বসলো যে, সে গ্রেট ব্রিটেন ফুটবল দলকে গুণে গুণে এক হালি গোল দেবে! পুরো লন্ডন নড়েচড়ে বসলো। তখন সেই বাঙ্গালটাকে নাকানি চুবানী খাওয়ানোর উদ্দ্যশে গ্রেট ব্রিটেন খেলতে রাজী হলো। খেলা শুরু হলো, মাঠ লোকে লোকারন্য। সামাদ কিরকম নাস্তানাবুদ হয় তা দেখার জন্য দলে দলে শ্বেতাঙ্গ সাহেব মেমরা মাঠে হাজির হয়েছে। খেলা শুরু হলো। সামাদ সেই খেলায় আসাধারন খেলে ৪টি গোল করলেন! সর্ব ভারতীয় ফুটবল দল গ্রেট ব্রিটেনকে ৪-১ গোলে পরাজিত করলো।
You must be logged in to post a comment.