এক mirada: X-ray আবিষ্কারের গল্প
১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী Wilhelm Conrad Röntgen তাঁর পরীক্ষাগারে ক্যাথোড রশ্মি (Cathode Rays) নিয়ে গবেষণা করছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন—তাঁর টিউব থেকে নির্গত এক অদৃশ্য রশ্মি একটি সুইচ করা স্ক্রিনকে আলো দেখাচ্ছে, যদিও সরাসরি আলো পড়ছিল না! [1] তিনি বুঝতে পারলেন এটি এক নতুন ধরনের রশ্মি, যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু কঠিন বস্তু যেমন হাড়, ধাতু ভেদ করতে পারে।
⠀
রন্টজেন এই রহস্যময় রশ্মিকে “X‑Ray” নাম দিয়েছিলেন—এখানে “X” অর্থ দেওয়া হয়েছে Unknown (অজানা)। [2] তাঁর প্রথম এক্স‑রে ছবি ছিল তাঁর স্ত্রী Bertha Röntgen’র হাতে থাকা রিংসহ হাড়ের ছায়াছবি, যা দেখেই তিনি ভয় পেয়ে বলেছিলেন, “I have seen my own death!”
⠀
এই আকস্মিক আবিষ্কার দ্রুত প্রেস ও বিজ্ঞানিদের মধ্যে আলোচিত হয়ে উঠেছিল। ২৮ ডিসেম্বর ১৮৯৫‑এ তিনি “Über eine neue Art von Strahlen” (A New Kind of Rays) শিরোনামে একটি গবেষণা রচনা প্রকাশ করেন। [3]
X-ray প্রযুক্তির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
১৮৯৫ সালে Wilhelm Conrad Röntgen‑এর হঠাৎ এক আবিষ্কার আজ আমাদের চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে। অদৃশ্য রশ্মির সাহায্যে আমরা আজ ভিতর‑দেখার সক্ষমতা পায়েছি, হাড়ের ভেতর, টিউমার‑ভিতরে, এমনকি সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। এক্স‑রে শুধু বিজ্ঞানের উদ্ভাবন নয়, এটি মানব জীবনের সুরক্ষার এক অগ্রগণ্য হাতিয়ার।
এক্স‑রে হলো এক ধরনের উচ্চতর ঊর্দ্ধ‑তর তরঙ্গ; সাধারণ আলো থেকে আড়াই হাজার গুণ ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে। [4] এই রশ্মি ফোঁটায় বা ঘনীভূত বস্তু যেমন হাড়, ধাতু দিয়ে প্রতিফলিত হয় না সহজে, কিন্তু নরম টিস্যু যেমন মাংস, ত্বক ইত্যাদি পার হয়ে যায়। রন্টজেন দেখেছিলেন—প্রকাশকৃত স্ক্রিনের মাধ্যমে হাড়ের ছায়া ও রিং‑এর ধাতুর আকৃতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, অথচ সাধারণ আলো দিয়ে এমন দৃশ্য পাওয়া সম্ভব ছিল না। [2]
এই প্রযুক্তি‑বিকাশের পরে এক্স‑রে দ্রুত চিকিৎসা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কলাকৌশলে ব্যবহার শুরু হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে বুলেট বা কাঁচাঘাতের অবস্থায়ও এক্স‑রে ব্যবহৃত হয় সার্জারির আগে অবস্থান নিরূপণে। [4]
চিকিৎসাবিজ্ঞানকে বদলে দেওয়া এক আবিষ্কার
এক্স‑রে আবিষ্কার চিকিৎসা ইতিহাসে এক বিপ্লব। হাড়ভাঙা, টিউমার শনাক্ত, অন্তর্নিহিত জটিলতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এক্স‑রে এক মুখ্য হাতিয়ার ছিল।
উদাহরণস্বরূপ, ১৮৯৬ সাল থেকেই এক্স‑রে মেশিন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। [1]
এছাড়া এই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার হয় সাধারণ ব্যবহারে—১৯১৫‑২০এর দিকে এমন পাদুকার দোকান ছিল যেখানে গ্রাহকরা এক্স‑রে দেখে হাড়ের অবস্থা যাচাই করতেন! [4]
১৯০১ সালে রন্টজেন প্রথমবারের মতো নোবেল পুরস্কার (Physics) লাভ করেন তাঁর এই আবিষ্কারের জন্য। [3]
X-ray প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তা
যদিও এক্স‑রে ছিল বিপ্লবী আবিষ্কার, তবে এর সাথে এড়িয়ে যাওয়া যায়নি ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। রশ্মি‑প্রসারিত এক্স‑রে প্রয়োগের পর দেখা গেছে — চর্মজ্বাল, লিউকেমিয়া, এবং ত্বকের ক্ষত। [4]
নিরাপত্তার কারণে আজকের চিকিৎসা‑প্রক্রিয়ায় এক্স‑রে ব্যবহারে সময়, শক্তি ও সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রেডিয়েশন‑দায়ক পরিমানের ক্ষেত্রে নিয়মিত ধাপ গ্রহণ করা হয়।
X-ray আজ এবং ভবিষ্যতে সম্ভাবনা
আজ ও এক্স‑রে প্রযুক্তি রয়েছে চিকিৎসার মূলভিত্তি। যেমন: ডেন্টাল এক্স‑রে, কম্পিউটার টমোগ্রাফি (CT Scan), ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ক্যানিং, বিমানবন্দর নিরাপত্তায় এক্স‑রে স্ক্যানার।
ভবিষ্যতে উন্নত এক্স‑রে প্রযুক্তি কম রশ্মি দিয়ে দ্রুত, আরও নিরাপদ ছবি নেবে। গবেষকরা খুঁজছেন আরও সূক্ষ্ম তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম ক্ষতিকর বিকল্প।
উপসংহার
১৮৯৫ সালে উইলহেল্ম রন্টজেনের এক্স-রে আবিষ্কার শুধুমাত্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে নয়, মানব সভ্যতার অগ্রগতিতেও একটি যুগান্তকারী মোড়। এই অদৃশ্য রশ্মি আজ চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি হয়ে উঠেছে—হাড়ের ফাটল শনাক্ত থেকে শুরু করে জটিল রোগ নির্ণয় পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এটি অপরিহার্য। যদিও এক্স-রের অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আজ আমরা আরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে এক্স-রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত, দ্রুত ও কম ক্ষতিকর এক্স-রে প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞান আরও এগিয়ে যাবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরেও রন্টজেনের সেই হঠাৎ করা আবিষ্কার মানবজাতির কল্যাণে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে—এটাই বিজ্ঞানের প্রকৃত সৌন্দর্য।
উদ্ধৃতি:
1. dayhist.com: dayhist.com/events/discovery-of-x-rays-wilhelm-rontgen-1895?utm_source=chatgpt.com
2. HISTORY: www.history.com/articles/x-ray-discovery?utm_source=chatgpt.com
3. x-ray-optics.de: www.x-ray-optics.de/index.php/en/history?utm_source=chatgpt.com
4. HISTORY: www.history.com/this-day-in-history/german-scientist-discovers-x-rays?utm_source=chatgpt.com
You must be logged in to post a comment.