ফিরাউনের লাশের সামনে যে অধ্যাপক নতজানু হয়ে গেলেন। আমরা জানি ফিরাউনের স্ত্রী ঈমান এনেছিল। কিন্তু কে জানত যে ফিরাউনের লাশ গবেষণা করে কেউ ঈমান আনবে!
১৯৮১ সাল:
ফ্রান্সের বিখ্যাত সার্জন এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস বুকাইল—একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, যিনি ধর্ম নিয়ে কখনোই গভীর আগ্রহ দেখাননি। তিনি কেবল বিজ্ঞানকেই সত্যের একমাত্র মানদণ্ড মনে করতেন!
সেদিন মিশর সরকার তাকে এক বিশেষ কাজে ডাকেন—
সমুদ্র বিভাজনের সময় ডুবে মারা যাওয়া ফিরাউনের সংরক্ষিত মমি পরীক্ষা করার জন্য !
বুকাইল ভাবেন,
“হয়তো ইতিহাসের এক অংশ জানতে পারব।”
কিন্তু তিনি জানতেন না—
এই লাশই তাকে নিয়ে যাবে সেই সত্যের কাছে, যাকে তিনি সারা জীবন এড়িয়ে গেছেন।
অবিশ্বাস্য আবিষ্কার:
যখন তিনি ফিরাউনের লাশের ক্ষতচিহ্ন, হাড়, ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অংশ পরীক্ষা করেন—
তিনি বিস্মিত হয়ে যান।
শরীরের ভেতরে ডুবে মৃ’ত্যুর প্রমাণ এখনো স্পষ্ট।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—
এই লাশটি সংরক্ষণ করা হয়েছে এক অস্বাভাবিকভাবে নিখুঁত অবস্থায়।
বুকাইল বলেন,
“সমুদ্রের পানিতে ডুবলে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা। এখানে কেন হলো না?”
তিনি আরও গবেষণা করেন…….!
তাদের সামনে আসে আরও বিস্ময়কর তথ্য—
ফিরাউন ডুবে মারা যাওয়ার পরই দ্রুত মমি করা হয়েছে!
এইভাবে মৃ’ত্যুর কারণ এতদিন ধরে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব!
অবিশ্বাসের দেয়ালে প্রথম আঘাত:
একদিন এক মিশরীয় প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তার হাত থেকে তিনি শুনলেন—
“কুরআনে তো এ কথা ১৪০০ বছর আগেই বলা আছে। ফিরাউনের দেহটিকে আল্লাহ সংরক্ষণ করবেন ভবিষ্যৎ মানুষের জন্য নিদর্শন হিসেবে!”
বুকাইল হতবাক!
তিনি ভাবলেন—
“এটা কি সম্ভব? যে ঘটনা আমি আজ মাইক্রোস্কোপে দেখছি, তা একটি ১৪শ শতাব্দীর গ্রন্থে লেখা থাকবে?”
সেই রাতেই তিনি কুরআনের সেই আয়তাটি খুঁজে বের করেন—
“আজ আমরা তোমার দেহকে রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তী মানুষের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকো।”
— সুরা ইউনুস, ১০:৯২
বুকাইলের হাত কেঁপে ওঠে!
– বিজ্ঞান ও ওহির মিলন
তিনি বলেন—
“আমি যে ঘটনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখলাম,
ঠিক সেটাই একটি ১৪০০ বছর পুরোনো কিতাবে লেখা আছে—
এটা মানুষের লেখা হতে পারে না।”
এভাবেই শুরু হয় তার সত্যের যাত্রা।
তিনি কুরআনকে গবেষণা করতে শুরু করেন—
বিজ্ঞান, ভাষা, ইতিহাস—সব দিক থেকেই।
মাসের পর মাস পর্যালোচনার পর তিনি নিজের ডায়রিতে লিখেছিলেন—
“আমি ইসলাম প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু কুরআনই আমাকে বাধ্য করল তার সত্য স্বীকার করতে।”
যেদিন তিনি মুসলমান হলেন;
এক রাতে, শান্ত একটি ঘরে বসে, ফিরাউনের সেই লাশের ছবি সামনে রেখে তিনি বলেছিলেন—
“আমি আজ সেই সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে আছি,
যা আমি লুকাতে পারি না।”
তারপর তিনি উচ্চারণ করেন শাহাদাহ!
মরিস বুকাইল—বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী—ইসলাম গ্রহণ করলেন কুরআনের সত্যত্বের সামনে নত হয়ে।
“পরে তিনি লেখেন বিখ্যাত বই”
“The Bible, The Qur’an and Science”
যা আজও পশ্চিমা জগতে ইসলাম প্রসারের এক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
You must be logged in to post a comment.