আসিয়ার উপর অত্যাচার ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি।

আসিয়ার উপর অত্যাচার ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি।

আসিয়ার উপর অত্যাচার ও ফেরাউনের শেষ পরিণতি।

🌊 অত্যাচার ও শেষ পরিণতি: আসিয়া (রাঃ)-এর জান্নাত লাভ ও ফেরাউনের করুণ দশা।
প্রাচীন মিশরের শাসক ফেরাউন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে অহংকারী ও নিষ্ঠুর শাসক। সে নিজেকে ‘আল্লাহ’ বলে দাবি করত এবং প্রজাদের বলত: “আমি ছাড়া তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই।” তার এই দাম্ভিকতা, জুলুম ও মিথ্যা দেবত্বের দাবি পুরো মিশরকে কাঁপিয়ে তুলত।
কিন্তু ফেরাউনের এই প্রাসাদ আর ফাসাদের ভেতরেই ছিল এক আলোকিত হৃদয়—তিনি হলেন তাঁর স্ত্রী হযরত আসিয়া বিনতে মুজাহিম (রাঃ)। তিনি ছিলেন ঈমানদার, দয়ালু এবং আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দী।

আসিয়ার দৃঢ় ঈমানঃ

যখন আল্লাহর নবী হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহর বার্তা নিয়ে ফেরাউনের কাছে এলেন, তখন আসিয়া বিনতে মুজাহিম (রাঃ) সেই সত্যকে দ্বিধা ছাড়াই বিশ্বাস স্থাপন করলেন। তিনি গোপনে নামাজ আদায় করতেন এবং আল্লাহর কাছে ব্যাকুল হয়ে দোয়া করতেন:
“হে আমার প্রভু! তুমি আমার জন্য জান্নাতে তোমার সান্নিধ্যে একটি ঘর তৈরি কর। আর আমাকে ফেরাউন এবং তার অত্যাচার থেকে রক্ষা কর।”
একদিন ফেরাউন জানতে পারল যে, তার স্ত্রী তার উপাস্যকে অস্বীকার করে হযরত মূসা (আঃ)-এর আল্লাহ্‌র ওপর ঈমান এনেছে। ফেরাউন প্রচণ্ড ক্রোধে ফেটে উঠলো এবং আসিয়াকে ধরে আনার আদেশ দিল।
ফাসাদের সৈন্যরা তাকে টেনেহিঁচড়ে ফেরাউনের সামনে নিয়ে এলো। ফেরাউন ক্রোধে গর্জন করে বলল, “তুমি কি এখনও মূসার আল্লাহকে বিশ্বাস করো?”
আসিয়া বিনতে মুজাহিম (রাঃ) দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ! আমি এক আল্লাহকে বিশ্বাস করি, যিনি আসমান ও জমিনের মালিক!”
ফেরাউনের রাগ সীমা ছাড়িয়ে গেল। সে আদেশ দিলো, “তাকে মাটিতে শুইয়ে দাও এবং বিশাল পাথর দিয়ে চেপে দাও, যতক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করে।”

জান্নাতের দৃশ্য ও শাহাদাতঃ

আসিয়া (রাঃ) যখন এই চরম অত্যাচারের শিকার হচ্ছিলেন, তখন তিনি আকাশের দিকে তাকালেন। তাঁর মুখে কোনো ভয় ছিল না। সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাঁর সামনে জান্নাতের দরজা খুলে দিলেন! তিনি দেখলেন আলোয় ভরা এক প্রাসাদ, শান্তি আর আনন্দে পরিপূর্ণ। সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে তিনি হাসলেন।
সৈন্যরা অবাক হয়ে গেল, কিন্তু ফেরাউনের আদেশে তাঁকে শহীদ করা হলো। আসিয়ার পবিত্র আত্মা আল্লাহর কাছে চলে গেল এবং তিনি জান্নাতের অন্যতম রানীদের একজন হলেন।

ফেরাউনের চূড়ান্ত পরিণতিঃ

এদিকে, ফেরাউনের পরিণতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে বনি ইসরাইলকে নিয়ে সমুদ্রের দিকে পালালেন, ফেরাউন তার বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের পিছু নিল।
আল্লাহ সমুদ্রকে বিভক্ত করে মূসা (আঃ)-এর জন্য শুকনো পথ তৈরি করলেন। বনি ইসরাইল নিরাপদে পার হয়ে গেল। ফেরাউন অহংকার করে বললো, “দেখো, আমিও পার হব!” সে সৈন্যদের নিয়ে মাঝ সমুদ্রে প্রবেশ করল।
ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহর আদেশে সমুদ্রের ঢেউগুলো আবার মিলিত হলো। পুরো সৈন্যবাহিনী সহ ফেরাউন ডুবে গেল!
ডুবে যাওয়ার সময় ফেরাউন চিৎকার করে বললো: “আমি বিশ্বাস করলাম, মূসার উপাস্য সত্য!” কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। আল্লাহ বললেন: “এখন আর নয়! তুমি তো এতদিন অবাধ্য ছিলে।”
ফেরাউন মারা গেল, কিন্তু তার দেহকে আল্লাহ সংরক্ষণ করলেন, যাতে পৃথিবীর মানুষ দেখতে পারে—যারা অহংকার করে আল্লাহকে অস্বীকার করে, তাদের পরিণতি কী ভয়াবহ হয়।
হযরত আসিয়া (রাঃ) পেলেন জান্নাতে সর্বোচ্চ মর্যাদা, আর ফেরাউন পেল চিরস্থায়ী লাঞ্ছনা ও ধ্বংস।
শিক্ষা:
ঈমানের দৃঢ়তা ও আল্লাহর প্রতি ভরসাই হলো প্রকৃত মুক্তি। ক্ষমতার অহংকার এবং আল্লাহর অবাধ্যতা ব্যক্তিকে অনিবার্য ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।

You must be logged in to post a comment.