Burg Eltz দূর্গ

Burg Eltz দূর্গ

টানা প্রায় ৯০০ বছর, ৩৩ প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের দখলে এই Burg Eltz দূর্গ।

জার্মানির মসেল উপত্যকার ঘন অরণ্যের ভেতরে, এলজবাখ নদীর পাথুরে বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন দুর্গ—Burg Eltz। প্রায় নয় শতাব্দী ধরে একই পরিবারের হাতে টিকে থাকা এই দুর্গ যেন সময়ের বুক চিরে উঠে আসা এক জীবন্ত ইতিহাস। রূপকথার মতো দেখতে এই স্থাপনাটি শুধু স্থাপত্য নয়, এক পরিবারের উত্তরাধিকার, রাজনীতি আর ঐতিহ্যের নিরব সাক্ষী।
দুর্গটির নাম প্রথম পাওয়া যায় ১১৫৭ খ্রিস্টাব্দের এক দলিলে, যেখানে সম্রাট ফ্রেডরিক প্রথম বারবারোসা “রুডলফ ফন এল্টজ”-এর নাম উল্লেখ করেন। ধারণা করা হয়, তখনই দুর্গের প্রাথমিক কাঠামো গড়ে উঠছিল। পাহাড়ের ঢালে, তিন দিক দিয়ে জলবেষ্টিত অবস্থান—যেকোনো শত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে ছিল উপযুক্ত। মূলত বাণিজ্যপথ রক্ষা ও আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণের জন্যই Burg Eltz তৈরি হয়েছিল।
Eltz পরিবারই এই দুর্গের প্রতিষ্ঠাতা, এবং আজও তাদেরই উত্তরাধিকারীরা এর মালিক। ত্রয়োদশ শতকে পরিবারের তিন ভাই—এলিয়াস, উইলহেল্ম ও থিওডরিখ—দুর্গটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। সেই থেকেই এটি “Ganerbenburg” নামে পরিচিত হয়, অর্থাৎ এমন এক দুর্গ যা একাধিক উত্তরাধিকারীর মধ্যে যৌথভাবে ভাগ করা। সময়ের সঙ্গে দুর্গের তিনটি অংশ—Eltz Rübenach, Eltz Rodendorf ও Eltz Kempenich—ভিন্ন ভিন্ন শাখার হাতে যায়। অবশেষে ১৮১৫ সালে সব শাখা একত্রিত হয়ে Eltz-Kempenich পরিবারই একমাত্র মালিক হয়। বর্তমানে পরিবারের ৩৪তম প্রজন্ম এখানকার অভিভাবক।
স্থাপত্যে Burg Eltz একেবারে অনন্য। রোমানেস্ক, গথিক ও বারোক—তিন যুগের শৈলীর সংমিশ্রণে তৈরি এই দুর্গ প্রায় পাঁচশ বছর ধরে নানা ধাপে নির্মিত হয়েছে। ১৩শ শতকে যুক্ত হয় Platt-Eltz অংশ, ১৪শ শতকে Rübenach House, আর ১৬শ শতকে Kempenich House। উনিশ শতকে, ১৮৪৫ থেকে ১৮৮৮ সালের মধ্যে, এক বিশাল পুনর্নির্মাণে প্রায় ১,৮৪,০০০ রাইখসমার্ক ব্যয় হয়—যা আজকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৫ মিলিয়ন ইউরো সমান।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, জার্মানির শতাব্দীজুড়ে ঘটে যাওয়া যুদ্ধ, দখল আর অগ্নিকাণ্ডের পরও এই দুর্গ কখনও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি। ১৩৩০-এর দশকে Trier-এর আর্চবিশপ Balduin of Luxembourg এখানে আক্রমণ চালিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্গ টিকে যায়। এমনকি Thirty Years’ War কিংবা নেপোলিয়নের যুদ্ধকালেও এটি অবিকৃত থাকে। তাই Burg Eltz আজও মধ্যযুগের সেই আসল চেহারাতেই দাঁড়িয়ে আছে—সময়ের ক্ষয়েও অমলিন।
আজ দুর্গের একটি অংশে এখনও Eltz পরিবার বসবাস করে, আর বাকিটুকু উন্মুক্ত জাদুঘর হিসেবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা। ১৯৬১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত জার্মান ৫০০ মার্ক নোটে এর ছবি ছাপা হয়েছিল—জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে।
Burg Eltz কেবল পাথর ও চুনের গাঁথুনি নয়; এটি এক পরিবারের নয় শত বছরের আস্থা, ঐতিহ্য আর উত্তরাধিকারের গল্প। ইতিহাস যেভাবে মানুষের মনে টিকে থাকে, Burg Eltz তেমনি দাঁড়িয়ে আছে সকলের সম্মুখে অবিচল ও নীরব ভাবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে.

You must be logged in to post a comment.