মহাবিশ্বের-নতুন-পৃথিবী-এবং-তাদের-অদ্ভুত-সব-গল্প 

মহাবিশ্বের নতুন পৃথিবী এবং তাদের অদ্ভুত সব গল্প 

মহাবিশ্বের নতুন পৃথিবী এবং তাদের অদ্ভুত সব গল্প

এই অগণিত নক্ষত্রের ভিড়ে আমরা কি সত্যিই একা? নাকি ওই দূর তারাগুলোর চারপাশেও ঘুরছে আমাদের পৃথিবীর মতোই কোনো গ্রহ, যেখানে বইছে বাতাস, আছে পানি, অথবা এমন কোনো প্রাণ, যা আমাদের কল্পনারও বাইরে? এক সময় যা ছিল কেবল সায়েন্স ফিকশন, আজ তা কঠিন বাস্তব। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলা হয় এক্সোপ্ল্যানেট (Exoplanet), যারা আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ।
নাসার সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী (২০২৪–২৫) এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে আবিষ্কৃত এক্সোপ্ল্যানেটের সংখ্যা ৬০০০-এরও বেশি। এবং আরও হাজার হাজার গ্রহ এখনো নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায়। অথচ নব্বইয়ের দশকের আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতই ছিলেন না। অন্য তারার চারপাশে আদৌ গ্রহ থাকতে পারে কি না।
১৯৯৫ সালে সুইজারল্যান্ডের দুই জ্যোতির্বিজ্ঞানী মিশেল মেয়র ও দিদিয়ের কেলোজ আবিষ্কার করেন 51 Pegasi b সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা প্রথম নিশ্চিত এক্সোপ্ল্যানেট। গ্রহটি ছিল চরম অদ্ভুত। এর এক বছর মাত্র ৪ দিনে শেষ হয় এবং তাপমাত্রা ১,০০০° সেলসিয়াসেরও বেশি। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্যই তাঁরা ২০১৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান। এখান থেকেই শুরু হয় এক্সোপ্ল্যানেট শিকারের স্বর্ণযুগ।
২০০৯ সালে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে যাওয়ার পর গ্রহ আবিষ্কারের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। ‘ট্রানজিট মেথড’-এ নক্ষত্রের আলোর অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরেই কেপলার একাই হাজার হাজার নতুন জগতের সন্ধান দেয়ে থাকে।
২০১৫ সালে আবিষ্কৃত হয় Kepler-452b, যাকে বলা হয় ‘পৃথিবীর বড় ভাই’। এটি পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ৬০% বড় এবং তার নক্ষত্রকে এমন দূরত্বে প্রদক্ষিণ করে, যেখানে তরল জল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এটি আমাদের থেকে প্রায় ১,৪০০ আলোকবর্ষ দূরে। যেখানে আজকের প্রযুক্তিতে সেখানে পৌঁছাতেও সময় লাগবে কোটি কোটি বছর।
মাত্র ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত TRAPPIST-1 নামের একটি লাল বামন নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে ৭টি পৃথিবী-আকারের গ্রহ। এর মধ্যে অন্তত ৩টি গ্রহ ‘habitable zone’-এ অবস্থান করছে, যেখানে পানি ও জীবনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেখান থেকে আকাশের দিকে তাকালে অন্য গ্রহগুলোকে চাঁদের মতো বড় দেখাবে একেবারে সায়েন্স ফিকশন দৃশ্য!
সব গ্রহ বসবাসযোগ্য নয়। যেমন HD 189733 b দেখতে নীল ও সুন্দর হলেও এখানে বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫,০০০ মাইল এবং এখানে হয় গলিত কাঁচের বৃষ্টি, তাও পাশ থেকে আছড়ে পড়ে!
আর 55 Cancri e যাকে ঘিরে আছে আরেকটি রহস্য। বিজ্ঞানীদের ধারণা যে এর অভ্যন্তরে প্রচুর কার্বন থাকায় এটি আংশিকভাবে হীরার মতো গঠিত হতে পারে। একটি সম্ভাব্য ‘ডায়মন্ড প্ল্যানেট’।
আজ মহাকাশে রাজত্ব করছে James Webb Space Telescope। এটি শুধু গ্রহ খুঁজছে না, বরং তাদের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড—জীবনের সম্ভাব্য চিহ্নও বিশ্লেষণ করছে। হয়তো খুব শিগগিরই এমন কোনো সংকেত আসবে, যা প্রমাণ করবে—আমরা এই মহাবিশ্বে একা নই।। ততদিন পর্যন্ত আপনিও আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতেই পারেন “ওই দূরের কোনো গ্রহে বসে, আমাদের মতোই কেউ কি টেলিস্কোপে চোখ রেখে ভাবছে আমাদের কথা?”
মহাবিশ্বের এমন আরও অজানা গল্প জানতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।
🔖 Note: এই পেজের ভুল থাকতে পারে তাই তথ্য ব্যবহারের আগে নিশ্চিত হতে ডবল চেক পদ্ধতির অনুসরণ করতে পারেন-
কলমে – আল মামুন রিটন
বিজ্ঞান তথ্য, BIGYAN tothyo

You must be logged in to post a comment.