রোমান স্পেস টেলিস্কোপের মহাজাগতিক অনুসন্ধান
এই দৃশ্যায়ন শুরু হয় হোমুনকুলাস নীহারিকার এক বিস্ময়কর দৃশ্য দিয়ে যেখানে অবস্থান করছে মহাবিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও অস্থির বিশাল বাইনারি তারা, ইটা ক্যারিনা। এই দৃশ্যটি আমরা দেখছি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের চোখে ধরা পড়া আলোর ভাষায়।
ধীরে ধীরে ক্যামেরা পিছিয়ে আসে, আর দক্ষিণ আকাশে উন্মোচিত হয় একটি বিশাল ও তুলনামূলকভাবে নিকটবর্তী তারা গঠনের অঞ্চল বৃহত্তর ক্যারিনা নীহারিকা। যেখানে হাবলকে একাধিক পর্যবেক্ষণ বিন্দু ব্যবহার করতে হয়েছে, সেখানে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের একটি মাত্র নির্দেশনাই হাবলের তুলনায় অনেক বড় এলাকা এক নজরে ধারণ করতে পারবে।
রোমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছয়টি ভিন্ন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্যারিনা নীহারিকার আরও বিস্তৃত অংশ পর্যবেক্ষণ করবে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নীহারিকার ভেতরে ঘটে যাওয়া সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করার সুযোগ করে দেবে। এই নীহারিকা এবং এর আশপাশের অঞ্চল, যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০,০০০ আলোকবর্ষ দীর্ঘ একটি সর্পিল বাহুর অংশ রোমান গ্যালাকটিক প্লেন সার্ভের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সম্পূর্ণ এই জরিপটি ৬৯১ বর্গ ডিগ্রি আকাশজুড়ে পরিচালিত হবে এবং দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
এসব পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের সামনে এক অতুলনীয় জানালা খুলে দেবে, যেখানে তারা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন, কীভাবে তারা জন্মায়, বেড়ে ওঠে, একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এবং তাদের চারপাশের মহাজাগতিক পরিবেশকে ভাস্কর্য করে তোলে। আর এই ক্যারিনা নীহারিকা, রোমান স্পেস টেলিস্কোপের সেই হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মাত্র একটি, যার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন।
সূত্র: নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার
You must be logged in to post a comment.