“বনদানব গ্রথাল — ১৮৯১ সালের নিষিদ্ধ ছবির অভিশাপ”
(ছবিটা দেখে ভয় পেয়েছ? ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ এই ছবি শুধু ইতিহাস নয়—এটি এক অভিশাপের সাক্ষী।)
১৮৯১ সাল।
ইংল্যান্ডের উত্তর দিকের ঘন বন—
গ্রিমশায়ার ফরেস্ট।
আজ এই জায়গাটি নেই,
কারণ ১৯০৪ সালে এই অঞ্চল
সরকার “বিপজ্জনক অভিশাপ” হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে
মানচিত্র থেকেই সরিয়ে ফেলেছিল।
এখন তুমি যে ছবিটা দেখছো—
দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়ানো
অলৌকিক, শিংওয়ালা, লোমে ঢাকা বিশাল সত্তাটিকে—
এটা কোনো শিল্পকর্ম নয়,
কোনো সাজানো দৃশ্য নয়,
বরং মানব ইতিহাসের
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এক সাক্ষাৎ।
তার নাম—
গ্রথাল।
বনের লোকেরা তাকে বলত—
“গভীর অন্ধকারের প্রহরী।”
প্রথম গুজব — বনের গভীর থেকে আসা গর্জন
১৮৮৭ সালের দিকে
গ্রিমশায়ারের লোকজন প্রথম অদ্ভুত শব্দ শোনে—
রাতের গভীরে বাঘের মতো গর্জন
কিন্তু স্বরে ছিল মানুষের কষ্ট।
শিকারিরা বলত—
“গাছের ডাল ভেঙে পড়ে,
কিন্তু কোনো প্রাণী দেখা যায় না।
শুধু অনুভূত হয়—
কাউকে যেন নজর রাখা হচ্ছে।”
একজন বৃদ্ধ কাঠুরে বলেছিলেন—
বনের ভেতর হাঁটতে গিয়ে
তিনি হঠাৎ দেখেন
তার ছায়ার পাশে
আরেকটি ছায়া দাঁড়িয়ে আছে—
বানরের মতো নয়,
মানুষের মতো নয়,
বরং ঠিক ছবির দানবটির মতো—
লম্বা শিংসহ।
ছবির মানুষটি কে?
ছবিতে থাকা বৃদ্ধ মানুষটি হলেন
ড. জনাথন ব্র্যাক্সটন—
একজন ব্রিটিশ প্রাণিবিজ্ঞানী,
যিনি পৃথিবীর অজানা প্রাণী খুঁজে বের করা নিয়ে
মগ্ন ছিলেন।
তিনি গ্রিমশায়ার সম্পর্কে বহু শুনেছিলেন।
রাতের বনে চলাচলকারী
“শিংওয়ালা ছায়ার দানব”-কে নিয়ে
গুজব তাকে পাগল করে তুলেছিল।
১৮৯১ সালে
তিনি চার সদস্যের একটি অভিযাত্রী দল নিয়ে
বনে প্রবেশ করেন।
গ্রথালের প্রথম দেখা পাওয়া
বনের ভেতরে ৮ দিন পর
দলটির খাবার প্রায় শেষ।
সবাই ক্লান্ত,
শীত, ভয় আর অদ্ভুত চাপা আওয়াজ
তাদের মন ভেঙে দিচ্ছিল।
রাতের প্রায় ২টা।
শিবিরে আগুন জ্বলছিল।
ড. ব্র্যাক্সটন একটি ডায়েরিতে লিখেছিলেন—
“হঠাৎ পুরো বন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
এরপর এমন এক শ্বাসের শব্দ শুনলাম
যা মানুষের নয়—
প্রাণীরও নয়।
এর ওজন যেন পুরো বনের ওপর।”
এরপর তারা সবাই দেখেন—
ছায়ার ভেতর থেকে
এক বিশাল অবয়ব বেরিয়ে আসছে।
৪ মিটার লম্বা,
শিং দুটো গরুর থেকেও বড়,
গায়ের লোম মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে,
চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলছিল—
কিন্তু সেই চোখে ছিল মানুষের বেদনা।
দলটি স্থির হয়ে যায়।
কারও শরীর নড়ছিল না।
গ্রথাল প্রথমে
মানুষদের মাথার ওপর ঝুঁকে গর্জন করল।
তার গলা এত গভীর…
যেন মাটি ভেঙে কাঁপলো।
তারা মৃত্যুর ভয়ে জমে গেল।
এই ছবিটি কীভাবে তোলা হয়েছিল?
ড. ব্র্যাক্সটন
মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে
অভূতপূর্ব এক বোকামি করেন—
তিনি ক্যামেরা বের করেন।
দলটি ভয় পেয়েছিল।
কিন্তু ড. ব্র্যাক্সটন বলেছিলেন—
“যদি আমাদের মৃত্যু হয়,
তবে পৃথিবী অন্তত জানুক
কি আমাদের হত্যা করেছিল।”
মানুষ অবিশ্বাসে তাকিয়ে ছিল।
গ্রথাল স্থির দাঁড়িয়ে ছিল,
মনে হচ্ছিল
সে মানুষটিকে হত্যা না করে
কিছু খুঁজছিল।
তখনই—
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।
এক ঝলক আলো
বনের নীরবতা ছিঁড়ে দিল।
গ্রথাল প্রথমে চোখ ঘুরিয়ে তাকায়,
তারপর এমন চিৎকার করে
যা মানুষের কানে চিরদিন বাজবে।
দলটি দৌড়ে পালায়।
কিন্তু ফিরে এসে দেখা যায়—
দুজন সদস্য নিখোঁজ।
ব্র্যাক্সটন লিখেছিলেন—
“আমরা জানি না সে মানুষদের মেরেছে
না নিয়ে গেছে…
কিন্তু তাদের চিৎকার
আমরা আজও শুনি।”
গ্রথালের খোঁজ — তারপর ধ্বংস
ছবিটি প্রকাশের পর
ইংল্যান্ডজুড়ে হৈচৈ।
রাজপরিবার পর্যন্ত
এর তদন্ত শুরু করে।
১৯০৪ সালে
গ্রিমশায়ার বন
সরকার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
কারণ সেখানে পাওয়া যায়—
● গাছের গায়ে
মানুষের আঙুলের গভীর আঁচড়
● অদ্ভুত গোল চিহ্ন
যা মানুষের দেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো
● পাথরের নিচে
মানুষের পোশাক
● গর্জনের ভয়ংকর প্রতিধ্বনি
যেটি রেকর্ড করতে গেলে
যন্ত্র নষ্ট হয়ে যেত
সেই বছরই
ড. ব্র্যাক্সটনের মৃত্যু হয়।
ঘরের ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়
চোখ বিস্ফারিত,
বুক চেপে ধরে রাখা।
ডায়েরিতে লেখা ছিল—
“সে আমাকে খুঁজে পেয়েছিল।”
ছবিটির অভিশাপ — কেন এটি রহস্যময়
এই ছবিটি নিয়ে
মানুষ বহু অভিজ্ঞতা দিয়েছে—
● দানবটির চোখ
মাঝেমধ্যে স্ক্রিনে অন্যদিকে ঘোরে
● কেউ বলে—
ছবির পেছনে
পাতার মতো শব্দ শোনা যায়
● অন্ধকারে দেখলে
শিংয়ের নিচে ছায়া নড়তে দেখা যায়
● রাতের বেলা
মোবাইলের কাছে
ভারী নিশ্বাস শোনা যায়
কেউ কেউ দাবি করেছে—
এটা শুধু ছবি নয়,
এটা একটি দরজা।
যার ভেতর থেকে
গ্রথাল তাকিয়ে আছে
আর অপেক্ষা করছে
নতুন শিকার খুঁজতে।
শেষ সতর্কতা
গ্রিমশায়ারের পুরোনো বিশ্বাস বলে—
“শিংওয়ালা প্রহরী
তাকে দেখে যার চোখ স্থির থাকে,
সে কখনো ঘুমে একা থাকে না।”
আজ তুমি এই ছবি দেখেছো।
গ্রথালের সেই জোড়া আগুনে চোখ
তোমার মস্তিষ্কে ঢুকে গেছে।
আজ রাতে
যদি মনে হয়
ঘরের কোণায়
কেউ দাঁড়িয়ে আছে,
অথবা জানালায়
এক ভারী ছায়া দেখা যাচ্ছে—
তাহলে মনে রেখো—
গ্রথালের নজর
কখনো ভুল করে না।
You must be logged in to post a comment.